ডিপিএস বা ডিপোজিট পেনশন স্কিম বাংলাদেশের মানুষের কাছে সঞ্চয়ের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। প্রতি মাসে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে কয়েক বছর পর একটা ভালো অঙ্কের টাকা হাতে পাওয়ার এই পদ্ধতি অনেকের কাছেই নিরাপদ এবং সহজ মনে হয়। কিন্তু মাসিক কিস্তি দেখে মেয়াদ শেষে ঠিক কত টাকা পাবেন তা আন্দাজ করা সহজ নয়।
এই ডিপিএস ক্যালকুলেটরে মাসিক কিস্তির পরিমাণ, ব্যাংকের সুদের হার এবং মেয়াদ দিলে আপনি সাথে সাথে দেখতে পাবেন মোট কত টাকা জমা হবে, মুনাফা কত যোগ হবে এবং মেয়াদ শেষে হাতে কত টাকা আসবে। নিচে আপনার তথ্য দিয়ে হিসাব করে দেখুন।
ডিপিএস কীভাবে কাজ করে
ডিপিএসে আপনি প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ব্যাংকে জমা দেন, আর ব্যাংক সেই টাকার উপর নির্দিষ্ট হারে মুনাফা যোগ করতে থাকে। যেহেতু প্রতি মাসে নতুন করে টাকা জমা হয়, তাই প্রতিটা কিস্তির মুনাফা গণনার সময়কাল আলাদা হয়। প্রথম মাসে জমা করা টাকা পুরো মেয়াদ জুড়ে মুনাফা পায়, আর শেষের দিকের কিস্তিগুলো কম সময়ের জন্য মুনাফা পায়।
এই হিসাবটা হাতে করতে গেলে বেশ জটিল মনে হতে পারে, কারণ প্রতিটা মাসের কিস্তির জন্য আলাদা আলাদা মুনাফা গণনা করতে হয়। ক্যালকুলেটরটি এই পুরো হিসাবটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে দেয়, তাই আপনাকে শুধু মাসিক কিস্তি, সুদের হার আর মেয়াদ দিলেই হবে।
ডিপিএস বেছে নেওয়ার আগে যা জানা দরকার
- সুদের হার স্থির থাকে না সবসময়: অনেক ব্যাংক বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়ে সময়ে ডিপিএসের সুদের হার পরিবর্তন করে।
- উৎসে কর কর্তন হয়: মুনাফার উপর নির্দিষ্ট হারে উৎসে কর কেটে রাখা হয়, তাই হাতে পাওয়া অর্থ হিসাবকৃত মুনাফার চেয়ে কিছুটা কম হবে।
- মেয়াদের আগে ভাঙালে লোকসান: মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে ডিপিএস ভাঙালে সাধারণত কম হারে মুনাফা পাওয়া যায় অথবা জরিমানা গুনতে হয়।
কাদের জন্য ডিপিএস উপযোগী
যারা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে চান, তাদের জন্য ডিপিএস বেশ কার্যকর একটা মাধ্যম। বিশেষ করে চাকরিজীবীরা যাদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট বেতন আসে, তারা বেতনের একটা অংশ ডিপিএসে রেখে দিলে বছর শেষে বড় কোনো খরচের জন্য টাকা জমিয়ে ফেলতে পারেন। সন্তানের শিক্ষাখরচ, বাড়ি তৈরির প্রাথমিক খরচ বা ব্যবসার মূলধন জোগাড় করার ক্ষেত্রেও অনেকে এই পদ্ধতি অনুসরণ করেন।
তবে ডিপিএস খোলার আগে বিভিন্ন ব্যাংকের সুদের হার তুলনা করে দেখা উচিত, কারণ একই ধরনের ডিপিএসে ব্যাংকভেদে মুনাফার হারে পার্থক্য থাকতে পারে। পাশাপাশি মেয়াদ শেষে কর কর্তনের নিয়মাবলিও আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো, যাতে প্রকৃত প্রাপ্য অর্থ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।